সরিষাবাড়ীতে পাঁচ জুয়াড়িকে ছেড়ে দিল পুলিশ

সরিষাবাড়ী(জামালপুর)প্রতিনিধি
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে জুয়ার আসর থেকে পাঁচ জুয়াডীকে আটকের পর টাকার বিনিময়ে পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ গ্রামবাসীর। ঘটনাটি গত সোমবার রাতে উপজেলার কুলপাল গ্রামে ঘটেছে।
কুলপাল গ্রামবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নের যমুনা নদীর তীরবর্তী কুলপাল গ্রামের মনোহারী ব্যাবসায়ী শফিকুল ইসলামের দোকানের ভিতর দীর্ঘ দিন ধরে তাস দিয়ে জুয়ার আসর চলে আসছিল।এ ঘটনার খবর পেয়ে গত সোমবার রাতে তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এস আই ইউনুস আলীর নেতৃত্বে জুয়া প্রতিরোধে নৌকাযোগে কুলপাল গ্রামের শফিকুল ইসলামের দোকানে অভিযান চালায়।এ সময় জুয়ার আসর থেকে আজিজল মিয়া(৩০),সরোয়ার হোসেন(৪৫),মাসুদ মিয়া(৩৫),রাসেল মিয়া(৩৫)ও শফিকুল ইসলামকে(৪২)আটক করা হয়।পরে ওই পাঁচ জুয়াডীর কাছ থেকে তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক(এসআই) ইউনুস আলী ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে জুয়াড়ীদের ছেড়ে দেয় বলে গ্রামবাসীর অভিযোগ।ওই পাঁচ জুয়াড়ী বাড়ি উপজেলার আওনা ইউনিয়নের কুলপাল গ্রামের বাসিন্দা।
জানতে চাইলে মনোহারী ব্যাবসায়ী শফিকুল ইসলাম জানান, আমার দোকানের ভিতর গ্রামের কয়েকজন রাতে তাস খেলতে ছিল। পুলিশ এসে তাদেরসহ আমাকে আটক করে।পরে কিছু টাকা দিলে পুলিশ আমাকে ছেড়ে দেয়।
এ ব্যাপারে জুয়াড়ী আজিজল হকের নিকট জানতে চাইলে তিনি ও রকম কিছু না বলে পাশ কেটে যান।
কুলপাল গ্রামের আলম মিয়া জানান, অনেক দিন ওদের বলেছি গ্রামে জুয়া খেইলো না। আমার কথা শুনে নাই। পুলিশ ওদের জুয়ার আসর থেকে ধইরে নিয়ে ১০ হাজার টাকায় ছাইরে দিয়েছে।
অভিযুক্ত তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই ইউনুস আলী বলেন,এস.পি স্যারের নির্দেশে কয়েকটি স্পটে অভিযান দেওয়া হয়।যমুনার পূর্ব তীরবর্তী গ্রাম কুলপালের শফিকুলে দোকানে অভিযান দিয়ে জুয়ার আসর থেকে ৫ জনকে আটক করা হয়েছিল। পরে গ্রামবাসীর অনুরোধে তারা মুচলেকা দিলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি আরো বলেন, জুয়াড়ীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।
তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক(তদন্ত)মুহাম্মদ মহব্বত কবীর বলেন,গ্রামবাসীর অনরোধে পাঁচ জুয়ারুকে ধরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।ইউনুস আলী টাকা নিয়ে থাকলে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।