তুমি সর্বজন শ্রদ্ধেয় মহাশয়

ইসমাইল হোসেন সরিষাবাড়ী(জামালপুর)প্রতিনিধিঃ “তুমি সর্বজন শ্রদ্ধেয় মহাশয়, তাই তো ব্যথিত করে গেলে সকলের হৃদয়”। আজ জামালপুরের সরিষাবাড়ী বাসী গভীর শোকাহত, মর্মাহত,ব্যথিত প্রিয় শিক্ষক বাবু জ্যোতিষ চন্দ্র সাহাকে হারিয়ে। জানা গেছে এই পরম শ্রদ্ধেয় মহাআত্মার জন্ম হয়ে ছিল ১৯৩৯ সালে। তার পিতার নাম ছিল যতীন্দ্র মহন সাহা এবং মাতার নাম ছিল নলীনি বালা সাহা। তারা ছিলেন দুই ভাইবোন। তন্মধ্যে তিনি ছিলেন ছোট। শৈশবকাল থেকেই তিনি ছিলেন একজন কোমল স্বভাবের মানুষ।তার নৈতিকতা, মানবিকতা আর সামাজিকতা ছিল অবিস্মরণীয়। তিনি কখনো মানুষের মনে কষ্ট দিতে পছন্দ করতেন না। তিনি বিশ্বাস করতেন স্রষ্টার সৃষ্টিকূলের মাঝেই ঈশ্বরের অবস্থান। তাই তিনি বেছে নিয়ে ছিলেন মানুষ গড়ার কাজটি। কারণ মানুষ হয়ে জন্ম নিলেই মানুষ হওয়া যায় না। তাই প্রকৃত মানুষ হতে হলে ভিতরের মনুষ্যত্বটাকে সৃজন করতে হয় নতুন রূপে। আর সেই রূপকারের দায়িত্বটি বেছে নিয়ে ছিলেন এই মহাত্মা জ্যোতিষ চন্দ্র সাহা। জানা যায়, তিনি ১৯৫৪ সালে মেট্রিক, ১৯৫৭ সালে আই এ এবং ১৯৬০ সালে বি এ পাস করেন সিরাজগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ থেকে। তারপর তিনি ১৯৬১ সালে সরিষাবাড়ী আরামনগর হাই স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিজেকে নিযুক্ত করেন এবং তার কর্মজীবন শুরু করেন সততার সহিত।বর্তমানে এই স্কুলটির নাম পরিবর্তন করে সরিষাবাড়ী রিয়াজ উদ্দিন তালুকদার উচ্চ বিদ্যালয় করা হয়েছে বলে জানা যায়। আর এই স্কুলের অফিস সহকারী নূরুল ইসলাম খান বলেন, ১৯৯৩ সালে আর ইউ টি স্কুলে জয়েন্ট করেছি। স্যার অবসরে গিয়েছেন ২০০৩ সালে। দীর্ঘ এই ১০ বছরে দেখেছি, এই মানুষটি স্কুলের সামান্য বেতনটুকু তার স্ত্রী র হাতে তুলে দিয়ে বলতেন, রাণী বালা সংসার তুমি চালাবে, আমি কিন্তু সময় দিতে পারবোনা। কারণ স্কুলের স্টুডেন্টরা আমার সন্তান, ওদেরকে মানুষ করতে হবে। এমন মহৎতি দায়িত্ববান মানুষ ছিলেন তিনি বলে জানান এই সহকর্মী। তিনি আরও বলেন, এই মানুষটি সকাল হতে রাত দশটা পর্যন্ত নিরস পরিশ্রম করে প্রতিষ্ঠিত করে ছিলেন এই শিক্ষাঙ্গণ। সৃষ্টি করে ছিলেন শিক্ষার্থীদের উজ্জল ভবিষ্যৎ। যার কারণে আজও দেখা যায় তার হাতে গড়া কত রাষ্ট্রীয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, শিক্ষক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল ব্যারিস্টার,বিজ্ঞানী কবি সাহিত্যিক ইত্যাদি ব্যক্তিবর্গ। শুধু তাই নয়, তিনি উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাবেক সভাপতি ছিলেন বলে জানা যায়। তার এই চলে যাওয়া অপূরণীয় বলে জানান আর ইউ টি স্কুলের প্রধান শিক্ষক অরুন কুমার সাহা। তিনি আরও বলেন,আমি তার সন্তান হিসেবে গর্বিত অলঙ্কৃত। প্রকৃতির নিয়মে প্রতিটি জীবাত্মার মৃত্যু অনির্বায। তাই তিনি বিধার ডাকে চলে গেছেন ওপারে প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই। ১৩ অক্টোবর ২০১৯ইং তারিখে রাত সাড়ে ৩ টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরলোক গমন করেন এই মহাআত্মা এবং রেখে যান তার অনেক গুণগ্রাহী।