শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ পাচ্ছেন সংসদ সদস্যরা

শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ পাচ্ছেন সংসদ সদস্যরা

জাতীয় সংসদের সদস্যরা আবারো শুল্কমুক্তভাবে গাড়ি আমদানির সুযোগ পাচ্ছেন। ইতিমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংসদ সদস্যদের গাড়ি আমদানিতে আগাম কর প্রত্যাহার করে আদেশ জারি করে তা কার্যকর করেছে। মূলত জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে আধাসরকারি পত্রে সংসদ সদস্যদের গাড়ি আনার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আগাম কর আদায় না করার অনুরোধের প্রেক্ষিতে এনবিআর আগাম কর তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এনবিআর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশে বিগত ১ জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করা হয়। ওই আইনে অত্যাবশকীয় পণ্য, শিল্পের মূলধনি কাঁচামাল, সামরিক সরঞ্জামসহ কিছু পণ্য বাদে অন্য পণ্য আমদানিতে ৫ শতাংশ অতিরিক্ত আগাম কর আরোপ করা হয়। আইনটি কার্যকরের ফলে সংসদ সদস্যদের গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রেও আগাম কর আরোপ হয়। কিন্তু বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় গাড়ি আনার প্রক্রিয়া শুরু করলে এনবিআর থেকে তাদের আগাম করের বিষয়টি জানানো হয়। এ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে বিষয়টি জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে জানানো হয়। আর সংসদদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকারের নির্দেশে সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান বিষয়টি জানিয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও এনবিআরের চেয়ারম্যানের কাছে পত্র লেখেন। ওই আবেদন পরীক্ষা করে অর্থমন্ত্রীর সম্মতির জন্য এনবিআর থেকে সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়। অর্থমন্ত্রী তাতে সম্মতি দেন। ফলে আদেশ জারি করে সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে এনবিআর।

সূত্র জানায়, বিগত ১৯৮৮ সালে প্রথম সংসদ সদস্যদের জন্য শুল্কসহ যাবতীয় করমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা দেয়া হয়। তারপর বিভিন্ন সরকারের শাসনামলেও ওই সুবিধা বহাল থাকে। তবে বিভিন্ন অনিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ সালে এমপিদের গাড়ি আমদানিতে কিছু শর্ত আরোপ করা হয়। সর্বশেষ নিয়মানুযায়ী একাধিকবার নির্বাচিত এমপিরা সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় গাড়ি আনতে পারবেন। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার পর সর্বনি¤œ ১৬৫০ সিসি এবং সর্বোচ্চ ৩০০০ সিসির কার, মাইক্রোবাস ও জিপ আনতে পারবেন তারা। আর প্রথম গাড়ি কেনার ৫ বছর পেরোনোর পর সংসদ সদস্য থাকাকালে দ্বিতীয় গাড়ি আনা যাবে। তবে শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় লেক্সাস, মার্সিডিজ, হামার, পোরশে, রোলস রয়েস ও ভলভোর মতো বিলাসবহুল গাড়ি আনা যাবে না।

সূত্র আরো জানায়, এনবিআরের নিয়মানুযায়ী শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় আনার পর একজন সংসদ সদস্যকে কমপক্ষে তা ৫ বছর পর্যন্ত চালাতে হবে। এর মধ্যে গাড়ি হস্তান্তর করা যাবে না। হস্তান্তর কিংবা বিক্রি করতে হলে সরকারের প্রযোজ্য হারে শুল্ককর পরিশোধ করতে হবে। পাশাপাশি গাড়িটি বিক্রি করতে গেলে স্পিকারের কাছ থেকে প্রত্যয়নপত্র নিয়ে সংশ্নিষ্ট শুল্ক কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে। আর কোনো সংসদ সদস্য গাড়ি আমদানির তারিখ থেকে পরবর্তী ৫ বছরের মধ্যে মারা গেলে তার উত্তরাধিকার গাড়িটি ব্যবহার করতে পারবেন। তবে তিনি সেটি বিক্রি করতে চাইলে নতুন করে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নিয়ে প্রযোজ্য হারে শুল্ককর পরিশোধ করতে হবে। সূত্রঃএফএনএস

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved©  Designed By Nagorikit.Com
Design BY NewsTheme