সরিষাবাড়ীতে যুবলীগ নেতাকে রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ

সরিষাবাড়ীতে যুবলীগ নেতাকে রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে যুবলীগ নেতাকে রড় দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ ওঠেছে।গত বুধবার (১৬ অক্টোবর)বিকালে উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের ফয়েজের মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।এ ঘটনায় সরিষাবাড়ী থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগে ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে,সরিষাবাড়ী উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের কুটুরিয়া গ্রামের মৃত মহির উদ্দিন ফকিরের ছেলে হাছেন আলী ফকির ওরফে সোনা মিয়া’র সাথে একই গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে আমীর হামজা’র পৈতৃক সুত্রে প্রাপ্ত দখলীয় জমি মাপ-ঝোক দিয়ে উভয়ের হারাহারি অনুযায়ী জমি বন্টন করে নেয়ার জন্য গত ৫ অক্টোবর শনিবার সকাল ১১টায় ফয়েজের মোড় আব্দুল হাইয়ের ডেকোরেটরের দোকানে এক গ্রাম্য সালীশ বসে। গ্রাম্য সালীশে বিআরডিবি’র চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক কামাল উদ্দিন পাঠান সভাপতিত্বে মহাদান ইউপি’র ১ নং ওয়ার্ডের সদস্য আমানুল কবীর লাভলু পরিচালনা করেন।গ্রাম্য সালীশে উভয় পক্ষকে শান্তিপূর্ন অবস্থানে থেকে হিস্যাঅনুযায়ী পক্ষদ্বয়ের জমি আমীন দ্বারা মেপে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।ওই গ্রাম্য সালীশের সিদ্ধান্ত অমান্য করে হাছেন আলী ফকির ওরফে সোনা মিয়া’র নেতৃত্বে আওয়াল,হাবিবুর রহমান,মোজাম্মেল হক সহ অজ্ঞাত ৫/৬ জন লোকজন নিয়ে একই গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে আমীর হামজা ও ৮ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মাসুদ রানার পৈতৃক সুত্রে প্রাপ্ত দখলীয় জমি জবর দখল করে ঘর উত্তোলন করতে যায়।লোক মুখে খবর পেয়ে ৮ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মাসুদ রানা তাদের জমিতে ঘর উত্তোলনে বাধা প্রদান করলে হাসেন আলী ফকির ওরফে সোনা মিয়া’র ও তার ছেলে যুবদল নেতা আওয়াল, হাবিবুর রহমান ও দেলোয়ার হোসেন ওরফে মন ফকিরের ছেলে মোজাম্মেল হক সহ ভাডাটিয়া অজ্ঞাত ৫/৬ জন লোকজন নিয়ে ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মাসুদ রানা উপর হামলা চালিয়ে লোহার রড় দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে আহত করে।এ সময় যুবলীগ নেতার বড় ভাই আমীর হামজা ও তার বড় ভাবী জাহানারা বেগমের ফিরাতে এলে তাদের কেও মারধর করা হয়। ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মাসুদ রানাকে তার মা ছাহেরা বেগম ও স্ত্রী শবনম খাতুন অজ্ঞান অবস্থায় সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের ভর্তি করান।এ নিয়ে উভয় পক্ষের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করলে যুবলীগ নেতা মাসুদুর রহমান ও তার বড় ভাই আমীর হামজার বিরুদ্ধে নানা ধরনের মিথ্যা প্রপাগান্ডা সহ মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানী এবং খুন জখমের হুমকি অব্যাহত রেখেছে বলে যুবলীগ নেতা মাসুদ রানার অভিযোগ।এ ঘটনায় যুবলীগ নেতা মাসুদ রানা বাদী হয়ে হাছেন আলী ফকির ওরফে সোনা মিয়া কে প্রধান বিবাদী করে ৬ জনের নাম উল্লেখ পূর্বক আরোও ৪/৫ জনকে অজ্ঞাতনামা বিবাদী করে সরিষাবাড়ী থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে আমীর হামজা জানান,আমার যৌত্তিক দাবী গ্রাম্য সালীশের সিদ্ধান্ত অমান্য করে হাছেন আলী ফকির ওরফে সোনা মিয়া’র ঘর উত্তোলনের প্রস্তুতিকালে বাধা প্রধান করায় আমাকে ও আমার ছোট ভাইকে লোহার রড় দিয়ে পিটিয়েছে আহত করেছ।তিনি আরোও বলেন আমি উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের কুটুরিয়া,ফুলদহ,বারইপটল গ্রাম নিয়ে আলোর দিশারী জনকল্যান সংগঠনের সভাপতি হিসেবে মাদক প্রতিরোধ,বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ,যৌতুক বিরোধী,ইভটিজিং প্রতিরোধ,শিক্ষার মান উন্নয়ন,এবং অনান্য জনসেবামূলক কাজ করছি।এ ছাড়াও হাজীবাড়ী জামে মসজিদের সভাপতি ও হযরত আমীর হামজা (রাঃ) মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং মিয়া ফাজিল চিশত ব্যাবসায়ী সমিতি সিলেটের সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আমাদের প্রতি শত্রুতা ভাবাপন্ন হয়ে হাছেন আলী ফকিরের লোকজন মারপিট করেছে এবং নানা হুমকি দিচ্ছে। ফলে আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় আছি।
জানতে চাইলে হাছেন আলী ফকির ওরফে সোনা মিয়া’র শশুর তোষর আলী মন্ডল বলেন,অন্যায় ভাবে আমার মেয়ে ও জামাতা হাসান আলী ফকির ওরফে সোনা মিয়া, নাতি আওয়াল,হাবিবুর রহমান,সহ কয়েকজন কে মারপিট করেছে। এ ঘটনায় হাছেন আলী ফকির বাদী হয়ে আমির হামজা কে প্রধান বিবাদী করে ১১ জনের বিরুদ্ধে সরিষাবাড়ী থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved©  Designed By Nagorikit.Com
Design BY NewsTheme