মোহনপুর বিদ্যালয়ের চেকের টাকা নিয়ে পিয়ন নিখোঁজ

মোহনপুর প্রতিনিধিঃ
রাজশাহী মোহনপুরের কেশরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের পিয়ন এবং কেশরহাট পৌরসভার হারদাগাছি গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে মাজহারুল ইসলাম রঞ্জু প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষরিত একটি চেকের ৭০ হাজার টাকা উত্তোলনের পর নিখোঁজের অভিযোগ উঠেছে।
এবিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়েরের দাবী প্রধান শিক্ষকের। আর থানার ওসি বলেছেন চেক বা টাকা নিয়ে পালানোর বিষয়ে কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ করেন নি। তবে পিয়ন রঞ্জুর ভাই থানায় নিখোঁজের বিষয়ে জিডি করেছেন।
সংশ্লষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ অক্টোবর কেশরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম তার নিজস্ব একাউন্টের সোনালী ব্যাংক মোহনপুর শাখার অনুকুলে ৭০ হাজার টাকার একটি চেক রঞ্জুর নামে স্বাক্ষর করে টাকা উত্তোলনের জন্য পাঠান। টাকা নিয়ে সে ফিরে না আসলে বিকেলে প্রধান শিক্ষক রঞ্জুর পরিবারকে ফোনে বিষয়টি অবগত করেন। এরপর পরিবারের লোকজন রঞ্জুকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। প্রধান শিক্ষকের দাবী পরদিন ব্যাংকে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে পিয়ন রঞ্জু চেক জমা দিয়ে টাকা উত্তোলন করেছে তবে সে ফিরে এসে টাকা ফেরত দেয়নি।অবশেষে ১৫ অক্টোবর থানায় রঞ্জুর বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে দাবী করেন প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম।অন্যদিকে ভাই নিখোঁজের ঘটনায় রঞ্জুর বড়ভাই মঞ্জুরুল ইসলাম মোহনপুর থানায় একটি জিডি করেন। যার জিডি নং ৭১০। গতকাল ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত রঞ্জু বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত বলে জানান প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম।
রঞ্জুর বড়ভাইয়ের দাবী রঞ্জু এমন ঘটনা ঘটাতে পারে না। বিষয়টি প্রধান শিক্ষক একবার ফোনে জানিয়েছেন আর কোনো খবর নেননি। এঘটনার আগের দিনেও সে অন্য শিক্ষকদের টাকা তুলে দিয়েছেন আর প্রধান শিক্ষকের টাকা তুলার পর নিখোঁজের বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। ভাই ফিরে আসলেই আসল ঘটনা জানা যাবে বলে জানান তিনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন বিদ্যালয়ের পিয়ন মাজহারুলকে আমার স্বাক্ষরিত ৭০ হাজার টাকার একটি চেক সোনালী ব্যাংকে জমা দিয়ে টাকা তুলতে পাঠিয়েছিলাম সে ফিরে না আসলে তার বড় ভাইকে মোবাইলে বিষয়টি জানায়।পরদিন ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সে ফিরে না আসলে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এবিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভায় তাকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাক আহম্মেদ বলেন,পিয়নের বিরুদ্ধে চেক নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ করেন নি। তবে মাজহারুলের পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজের বিষয়ে থানায় জিডি করা হয়েছে। দেশের সকল থানায় মেসেজ বার্তা পাঠানো হয়েছে।